কওমি শিক্ষা নিয়ে নতুন আইন বন্ধের দাবি : রাজধানীসহ সারাদেশে হেফাজতের স্মারকলিপি প্রদান : রাজধানীতে পুলিশের লাঠিচার্জ

কওমি মাদরাসার স্বকীয় বৈশিষ্ট্য ধ্বংস ও সরকারি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘কওমি মাদরাসা শিক্ষা কর্তৃপক্ষ আইন-২০১৩’ বন্ধের দাবিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। তবে রাজধানীতে পূর্বঘোষিত এ কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা দিয়েছে এবং হেফাজত নেতাকর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে।
পরে হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগর শাখার নায়েবে আমির হাফেজ মওলানা আবুল হাসনাত আমিনীর নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল জেলা প্রশাসক শেখ ইউসুফ হারুনের কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি জমা দেয়। 
রাজধানীর বাইরে সিলেট, চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, কুমিল্লা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন জায়গায় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা। এর আগে গত শনিবার চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদরাসায় সংগঠনটির জাতীয় ওলামা সম্মেলন থেকে ‘কওমি মাদরাসা শিক্ষা কর্তৃপক্ষ আইন- ২০১৩’ বন্ধ করার দাবিতে দেশব্যাপী প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রাদানের কর্মসূচি ঘোষণা করে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল ঢাকার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেয়ার জন্য সকাল সাড়ে ১০টায় হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটে জড়ো হতে থাকে। এ সময় পুলিশ তাদের বাধা দেয় এবং একপর্যায়ে লাঠিচার্জ করে তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। পরে হেফাজতের নেতাকর্মীরা গুলিস্তান গোলাপশাহ মাজারের সামনে আবার জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ আবারও লাঠিচার্জ করে এবং সেখান থেকেও তাদের হটিয়ে দেয়। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয় বলে হেফাজত নেতাকর্মীরা জানান।
পরে বেলা সাড়ে ১২টায় হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগর শাখার নায়েবে আমির হাফেজ মওলানা আবুল হাসনাত আমিনীর নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকার জেলা প্রশাসক শেখ ইউসুফ হারুনের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে প্রধামনন্ত্রীর উদ্দেশে দেয়া স্মরকলিপিটি জমা দেন। এ সময় জেলা প্রশাসক শেখ ইউসুফ হারুন অফিসে ছিলেন না।
এ ব্যাপারে আবুল হাসনাত আমিনী বলেন, সংগঠনের পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আমরা জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছি। এ সময় ঢাকা মহানগর হেফাজতে ইসলামের সদস্য সচিব জুনায়েদ আল-হাবিব, যুগ্ম সদস্য সচিব শফিক উদ্দিন, খেলাফত আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফখরুল ইসলাম, হেফাজত নেতা ফজলুল করিম কাশেমী, আলতাফ হোসেন, মহিউদ্দিন আকরাম, ইমরানুল বারী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
নাটোর : নাটোরে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল হেফাজতে ইসলাম বিক্ষোভ মিছিল করে স্মারকলিপি প্রদান করেছে। জাতীয় সংসদে কওমি মাদরাসা শিক্ষা আইন পাস করা থেকে বিরত থাকা ও ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়নে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা নাটোর শহরের ফুলবাগান এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে যান। বিক্ষোভ মিছিল শেষে তারা প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে হস্তান্তর করেন। স্মারকলিপিতে বলা হয়, তাদের এই ন্যায্য দাবি মানা না হলে হেফাজতে ইসলাম কঠিন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে নাটোর জেলা হেফাজতে ইসলামের সভাপতি মাওলানা মুফতি ইলিয়াস উসমানী এবং সদস্য সচিব মাওলানা রফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
রামু (কক্সবাজার) : কওমি মাদরাসা শিক্ষা কর্তৃপক্ষ আইন-২০১৩ পাসের নামে ঐতিহ্যবাহী কওমি শিক্ষা ধারাকে শিকলবদ্ধ করার উদ্যোগ থেকে বিরত থাকা ও হেফাজতে ইসলাম ঘোষিত ১৩ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির আওতায় প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ রামু উপজেলা।
গতকাল সকালে রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলাম রামু উপজেলা সহ-সভাপতি মাওলানা শামসুল হক, জেলা সহ-অর্থ সম্পাদক মাওলানা আবদুস সালাম কুদছী, জেলা নির্বাহী সদস্য মাওলানা মোহাম্মদ আলী, রামু উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আব্দুল গফ্ফার নাছের, প্রচার সম্পাদক হাফেজ মুহাম্মদ আবুল মঞ্জুর, সদস্য হাফেজ জালাল আহমদ, মাওলানা মুখলেছুর রহমান, মাওলানা জসিম উদ্দীন, মাওলানা আতাউল্লাহ্ প্রমুখ। 
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে রামু উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফজলুল্লাহ মুহাম্মদ হাসান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবুল কালাম উপস্থিত ছিলেন।
নারায়ণগঞ্জ : জাতীয় সংসদে কওমি মাদরাসা শিক্ষা কর্তৃপক্ষ আইন-২০১৩ পাস করা থেকে বিরত থাকা এবং হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা বাস্তবায়নের জন্য জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ হেফাজতে ইসলামের নেতারা। জেলা প্রশাসকের হয়ে স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হাসানুল মতিন।
গতকাল সকালে শহরের ডিআইটি মসজিদের সামনে হেফাজতের নেতাকর্মীরা জড়ো হন। পরে একটি মিছিল নিয়ে তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপিটি প্রদান করেন।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা হেফাজতে ইসলামের আহ্বায়ক মাওলানা আবদুল আউয়াল, আজিজুল হক, মাওলানা আবদুল কাদের, মাওলানা মহিবুল্লাহ, মাওলানা আবদুর রহমান, মাওলানা হারুনুর রশিদ প্রমুখ। 
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, কওমি মাদরাসা শিক্ষা কর্তৃপক্ষ-২০১৩ খসড়া নীতিমালাকে আইনে রূপান্তরিত করার তত্পরতা বন্ধ এবং দেশ ও জাতির বৃহত্তর কল্যাণে হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়। অন্যথায় হেফাজতে ইসলাম কঠিন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।
নোয়াখালী : কওমি মাদরাসা শিক্ষা কর্তৃপক্ষ আইন-২০১৩ জাতীয় সংসদে পাস করা থেকে বিরত থাকা ও হেফাজতে ইসলাম ঘোষিত ১৩ দফা বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী বরাবর গতকাল দুপুরে নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কাছে কওমি মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ও হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে। দুপুরে জেলা জামে মসজিদ থেকে একটি শোভাযাত্রা নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন তারা। পরে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি পেশ করেন। 
এ সময় জেলা হেফাজত ইসলাম নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা নজির আহমদ, মাওলানা নিজাম উদ্দিন, মাওলানা ইয়াকুব কাছেমী, মাওলানা হাফেজ আনছার, মাওলানা আলমগীর আল আমান, মাওলানা সিব্বির আহমেদ, মাওলানা নোমান ছিদ্দিকী, মাওলানা মমিনুল হক চৌধুরী, মাওলানা রুহুল আমিন চৌধুরী, মাওলানা ইয়াছিন আরাফাত প্রমুখ।
সিরাজগঞ্জ : কওমি মাদরাসা শিক্ষা কর্তৃপক্ষ আইন জাতীয় সংসদে পাস করা থেকে বিরত থাকা ও হেফাজতে ইসলাম ঘোষিত ১৩ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে সমাবেশ এবং জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে সিরাজগঞ্জ জেলা হেফাজতে ইসলাম। 
গতকাল সকালে স্থানীয় স্বাধীনতা স্কয়ারে জেলা হেফাজতে ইসলামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা আম্বর আলীর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তৃতা করেন মুফতি আহমদুল্লাহ, মুফতি মুহিবুল্লাহ, মাওলানা সাঈদ আহমদ, মাওলানা আব্দুস সামাদ প্রমুখ।
পরে প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
বাসাইল (টাঙ্গাইল) : গতকাল বিকালে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘কওমি মাদরাসা শিক্ষা কর্তৃপক্ষ আইন-২০১৩’ জাতীয় সংসদে পাস করা থেকে বিরত থাকা ও হেফাজতে ইসলাম ঘোষিত ১৩ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর লিখিত স্মারকলিপি স্থানীয় ইউএনও অফিসে জমা দেয় বাসাইল উপজেলা হেফাজতে ইসলাম। স্থানীয় হেফাজত সমর্থকসহ এ সময় উপজেলা হেফাজতে ইসলামের আমির মুফতি মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে ছিলেন সংগঠনের সেক্রেটারি মাওলানা নুরুল ইসলাম, মুফতি সাইফুল ইসলাম, আব্দুল বাছির, মাওলানা ওয়ালী উল্লাহ, জাহাঙ্গীর বিন জাফর প্রমুখ।
ফুলপুর (ময়মনসিংহ) : প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল দুপুরে ফুলপুর উপজেলা হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে স্মারকলিপি দাখিল করা হয়। স্মারকলিপিটি ফুলপুর উপজেলা হেফাজতে ইসলামের সভাপতি মাওলানা আইন উদ্দিনের কাছ থেকে ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এএসএম ফেরদৌস গ্রহণ করেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলাম ফুলপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মুফতি আব্দুল খালেক, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আবুল কাসেম, সহ-সভাপতি মাওলানা মহিউদ্দিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
সিলেট : কওমি মাদরাসার শিক্ষার স্বকীয়তা রক্ষার দাবিতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ কেন্দ্র ঘোষিত দেশব্যাপী প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশের কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল বুধবার মিছিল সহকারে সিলেট মহানগর হেফাজতের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। দুপুর ১২টায় সিলেটের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সিলেট মহানগর নেতারা স্মারকলিপি পেশ করেন। 
স্মারকলিপি পেশ শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মহানগর সভাপতি আল্লামা আবদুল বাছিত বরকতপুরী। মহানগর হেফাজতের সহ-সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মাওলানা শাহ মমশাদ আহমদ ও হাফিজ মাওলানা তাজুল ইসলাম হাসানের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তৃতা করেন জেলা হেফাজতের জয়েন্ট সেক্রেটারি আলহাজ মাওলানা রেজাউল করিম জালালী, মহানগর সহ-সভাপতি আলহাজ মাওলানা সিরাজুল ইসলাম সিরাজী, মহানগর সেক্রেটারি খতিব মাওলানা মস্তাক আহমদ খান, বায়তুল আমান জামে মসজিদের খতিব ও ইমাম ক্বারি মাওলানা মোজাম্মিল হোসেন চৌধুরী। 
সভাপতির বক্তব্যে আল্লামা বরকতপুরী বলেন, কওমি মাদরাসার শিক্ষা ব্যবস্থা ২শ’ বছর থেকে স্বাধীন ও স্বকীয়তার সাথে দ্বীনী শিক্ষা সম্প্রসারণ ও ইসলামের সেবা করে যাচ্ছে। ব্রিটিশও এই শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর কোনো হস্তক্ষেপ করেনি। এ শিক্ষার ওপর কোনো হস্তক্ষেপ জাতি বরদাশত করবে না। মাওলানা জালালী বলেন, কওমি মাদরাসার ওপর হস্তক্ষেপ করা হবে তৌহিদি জনতার হৃদয়ে আঘাত। তৌহিদি জনতার হৃদয়ে আঘাত আনার পরিণাম শুভ হবে না। 
স্মারকলিপিতে বলা হয়, আল্লাহপাকের অশেষ মেহেরবানিতে এদেশের হাজার হাজার কওমি মাদরাসা সরকারের কোনো অনুদান ও সাহায্য সহযোগিতা ছাড়া প্রায় দুইশ’ বছর ধরে স্বাধীন, স্বকীয় ও অস্তিত্ব নিয়ে রাজনীতি প্রভাবমুক্ত অবস্থায় পরিচালিত হয়ে আসছে। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাউত্তীর্ণ অসংখ্য আলিম উলামা-পীর-মাশায়েখ দেশ, জাতি ও ইসলামের সেবায় গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রেখে চলেছেন। সরকারি প্রভাবমুক্ত থাকায় ধর্ম তার নিজস্ব আবরণে বিকশিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। অথচ আপনার সরকার কওমি মাদরাসা শিক্ষা কর্তৃপক্ষ খসড়া আইনের মাধ্যমে ধর্মকে স্বাধীনভাবে চলার পথ রুদ্ধ করে দিতে চাইছে। এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা, ব্যবস্থাপনা, সিলেবাস ও শিক্ষানীতি সবকিছুই সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন করার অপকৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। কমিটি গঠন ও যখন তখন বরখাস্ত করার সুযোগ সরকারের হাতে রেখে কওমি মাদরাসা পরিচালনা কর্তৃপক্ষকে হাতের ঘুটি বানানোর যাবতীয় ব্যবস্থা নীতিমালায় রাখা হয়েছে।
সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হাফিজ মাওলানা ক্বারি আবদুল মতিন, আলহাজ মাওলানা গাজী রহমত উল্লাহ, আবদুল হান্নান তাপাদার, আলহাজ মাওলানা এমরান আলম, মাওলানা মুহিবুর রহমান, মাওলানা ছামিউর রহমান মুছা, মাওলানা মখলিছুর রহমান, মুফতি মাওলানা রশিদ আহমদ, মাওলানা জাকারিয়া আহমদ, মাওলানা আরিফুল হক ইদ্রিস, হাফিজ জামাল উদ্দিন, মাওলানা আনছার, মাওলানা নূর ইসলাম, ফাহাদ আমান, মাওলানা আখতার, মাওলানা আশরাফুল ইসলাম, মাওলানা নাছির উদ্দিন, হাফিজ রিয়াজ উদ্দিন আল মামুন, মাওলানা রেজওয়ান আহমদ, মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম, মাওলানা ওলিউর রহমান, মাওলানা বদরুল ইসলাম, মাওলানা ফখরুল ইসলাম, মাওলানা ফয়জুন নূর, মাওলানা কছির আহমদ, তাজুল ইসলাম প্রমুখ।
বগুড়া : ‘কওমি মাদরাসা শিক্ষা কর্তৃপক্ষ আইন-২০১৩’ জাতীয় সংসদে পাস করা থেকে বিরত থাকা ও হেফাজতে ইসলাম ঘোষিত ১৩ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসাবে গতকাল বুধবার সকালে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। জেলা প্রশাসকের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সুফিয়া নাজিম স্মারকলিপি গ্রহণ করেন। এ সময় হেফাজতে ইসলাম বগুড়া জেলা শাখার সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার শামসুল হক, হেফাজতের মুখপাত্র মুফতি আবদুল ওয়াহেদ, মাওলানা হুমায়ন কবির, মাওলানা জুয়েল, মাওলানা মিজান, কারী আহম্মেদ মোস্তফা, হাফেজ শামসুল হক, মাওলানা মুজাহীদুল ইসলাম, মাওলানা আবদুল আজিজ, মাওলানা আবদুর রাজ্জাকসহ সব সদস্য উপস্থিত ছিলেন। এর আগে হেফাজতের নেতাকর্মীরা মিছিলসহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হাজির হন।
রাঙামাটি : কওমি মাদরাসা শিক্ষা কর্তৃপক্ষ-২০১৩ খসড়া নীতিমালাকে আইনে রূপান্তরিত করার ষড়যন্ত্র বন্ধ ও ১৩ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির হিসেবে রাঙামাটি সদর উপজেলা ইউএনও’র কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ রাঙামাটি জেলা কমিটি। বুধবার বিকাল ৪টায় রাঙামাটি সদর উপজেলায় উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর দেয়া স্মারকলিপি হেফাজত নেতারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা রহমান শম্পার কাছে হস্তান্তর করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি জেলা হেফাজতের সমন্বয়কারী হাফেজ মাওলানা এনায়েত হোছাইন, জেলা কমিটির সদস্য মাওলানা জাকির হোসেন, মাওলানা আবদুর রহমান, হাজী জহির আহাম্মদ, মো. রফিকুল ইসলাম ও মো. ইব্রাহীম।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, কওমি মাদরাসা প্রধানত কোরআন সুন্নাহভিত্তিক পাঠ্যক্রমের আলোকে উন্নত নৈতিক চরিত্রের অধিকারী ধর্মতত্ত্ববিদ ও আদর্শ নাগরিক তৈরির বিশেষায়িত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এর অন্তর্নিহিত তাত্পর্য, আবেদন ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান-অভিজ্ঞান ছাড়া কোনো ব্যবস্থা নীতিমালা বা তথাকথিত সংস্কার চাপিয়ে দেয়া হলে ঈমান আমলের এই সোনালি পরিবেশ ধ্বংস হয়ে যেতে বাধ্য, যা প্রকারান্তরে সাধারণ মুসলমানদের আক্বিদা-বিশ্বাস, আমল ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের বুনিয়াদ ধসিয়ে দেয়ার শামিল। 
তাই এই আইনের খসড়া নীতিমালাকে আইনে রূপান্তরিত করার তত্পরতা অবিলম্বে বন্ধ করার দাবির পাশাপাশি দেশ ও জাতির কল্যাণে ঘোষিত ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়ন করার আহবান জানানো হয়েছে হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে।
মুন্সীগঞ্জ : মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক এবং বিভিন্ন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে হেফাজতে ইসলাম। কওমি মাদরাসা শিক্ষা কর্তৃপক্ষ আইন-২০১৩ জাতীয় সংসদে পাস করা থেকে বিরত থাকা ও হেফাজতে ইসলাম ঘোষিত ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাওলানা শামসুল আরেফিনের নেতৃত্বে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। 
অপরদিকে গজারিয়া উপজেলার হেফাজতে ইসলামের মু. আবু হানিফের নেতৃত্বে ৮ সদস্যবিশিষ্ট একটি দল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একই স্মারকলিপি প্রদান করে। এছাড়া সিরাজদিখান, লৌহজং, শ্রীনগর ও টংগীবাড়িতেও অনুরূপ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ) : ইউএনও’র মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বরাবর গতকাল দুপুরে ১৩ দফা দাবি আদায়ে গজারিয়ায় স্মারকলিপি পেশ করেছে হেফাজতে ইসলাম। 
দুপুর ২টার দিকে জেলার গজারিয়া উপজেলার ইউএনও ড. এটিএম মাহবুব-উল-করীমের কাছে স্মারকলিপি পেশ করে হেফাজতে ইসলাম। আবু হানিফ, আবু বকর সিদ্দিক, আবু সাঈদসহ গজারিয়া উপজেলা হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ পর্যায়ের ৮ নেতা স্বাক্ষরিত এ স্মারকলিপি পেশ করা হয়। 
এছাড়া দুপুর ১টার দিকে সদরে জেলা প্রশাসক সাইফুল হাসান বাদলের কাছে সদর উপজেলা হেফাজতে ইসলামের সভাপতি সিদ্দিকুল্লাহ স্বাক্ষরিত একটি স্মারকলিপি পেশ করা হয়। এ সময় বাংলাদেশ খতমে নবুওয়াত আন্দোলনের কেন্দ্রীয় আমির নুর হোসাইন নুরানী উপস্থিত ছিলেন।