الحمد لله رب العالمين و الصلاة والسلام علي اشرف الانبياء والمرسلين وعلي اله وصحبه اجمعين
মহান আল্লাহ পাক আমাকে আপনাকে ইহজগতে মানুষ হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। এর পাশাপাশি মানব জাতিকে সকল সৃষ্টি জগতের উপরে সর্বোত্তম মর্যাদা দান (আশরাফুল মাখলুকাত) করেছেন। মানুষের বৈশিষ্ট্যই হল প্রতিপালকের নির্দেশনা মতে নিজের জীবন গড়ে তোলা। আজ বিংশ শতাব্দিতে এসে মানুষ চন্দ্রজয় করেছে, গ্রহ নক্ষত্রের আবিস্কার করেছে, রকেট বুয়িং থেকে শুরু করে এটম হাইড্রোজেন, পরমাণু শক্তি অর্জন ও কম্পিউটার আবিস্কারসহ মানুষ সভ্যতার চরম শিখরে পদার্পনের কল্পনা করলেও বাস্তবে মানুষ নৈতিক অবক্ষয়ের শেষপ্রান্তে এসে পৌঁচেছে।
আজ মানুষ থেকে মনুষ্যত্ববোধ বিদায় নিয়েছে। মানুষ হিংস্র দানবে রূপান্তরিত হয়েছে। নিজের প্রতিপালকের পবিত্র বাণী ও নির্দেশনা প্রতিনিয়ত উপেক্ষিত। আজ মানবতা ও নৈতিকতার আর্তনাদে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে গেছে। চারিদিকে শুধু মজলুম নিষ্পেসিত শোষিতদের চিৎকার, শাসকদের শোষন, জালেমদের জুলুম, বিত্তশালীদের অত্যাচারে যেন জমিন ফেটে যাবে। এই শোষন এবং নিষ্পেশনের যাতাকল থেকে বিপন্ন মানবতাকে মুক্তির দিশারী দিতে যুগযুগ ধরে প্রতিক্ষার পর মুসলিম জনসাধরণের ঈমান-আকীদা, তাহযীব-তামাদ্দুন হেফাজতের লক্ষ্যে এদেশের সম্মানিত উলামায়ে কেরাম নিজেদের উপর আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক অর্পিত ঈমানী দায়িত্ব পূরণের লক্ষ্যে ২০১০ সালের ১৯ জানুয়ারী এশিয়ার বিখ্যাত ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামিয়া আহলিয়া দারুল উলੂম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী’র সম্মানিত পরিচালক সর্বজন শ্রদ্ধেয় বুজুর্গ, আলেমেদ্বীন, হযরত মাদানী রহ.-এর সুযোগ্য খলীফা শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী সাহেব (দামাত বারাকাতুহুম) এর নেতৃত্বে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ গঠন করেন。
উল্লেখ্য যে, দেশের মুসলিম জনসাধারণের মাঝে ইসলামের শিক্ষা-সংস্কৃতি ইত্যাদি সংরক্ষণ ও চর্চার মহান মাকসাদ নিয়ে একটি অরাজনৈতি সংগঠন হিসেবে ‘হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ’ এর পথচলা শুরু হয়। ধর্মীয় আন্তরিকতা এবং দেশ ও জাতির প্রতি পূর্ণ দায়িত্ববোধ সর্বোপরি নিষ্কলুষ দেশ প্রেম এর সুমহান প্রত্যয় ঘোষণার মধ্য দিয়ে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ আজ বর্তমান পর্যায়ে উপনীত হয়েছে।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ বিশ্বাস করে- ইসলামের নির্ভেজাল মৌলনীতি, আক্বীদা-বিশ্বাস, শিরক, বিদআত ও কুফরী তৎপরতামুক্ত মুসলিম সমাজ গঠন ও সংরক্ষণে যেমন- তার অপরিহার্য দায়িত্ব রয়েছে, তেমনি যে কোন রাষ্ট্রীয় সংকটে ও প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ ও সহযোগিতা দানের মধ্য দিয়ে এই সংগঠন তার গুরু দায়িত্ব পালন করে যাবে। বিশেষ করে ইসলাম ও মুসলিম বিরোধী যে কোন অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সোচ্চার কণ্ঠ উপস্থাপন ও সার্বিক প্রতিবাদ প্রতিরোধের ধারা এই সংগঠন যে কোন মূল্যে অব্যাহত রাখবে।
আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে, বর্তমানে বাংলাদেশে ইসলাম বিরোধী আক্বীদা-বিশ্বাস, শিক্ষা-সংস্কৃতি প্রচারের মধ্য দিয়ে মুসলমানদের স্বাতন্ত্র মূল্যবোধ, স্বকীয়তার ঐতিহ্যগত অনুভূত ধ্বংস করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সমূহ ষড়যন্ত্র চলছে। বিশেষ করে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সংবিধান থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের প্রাণের স্পন্দন “সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস” তুলে দিয়ে রাষ্ট্রীয় অন্যতম মূলনীতি হিসেবে কুফরী মতবাদ ‘ধর্ম নিরপেক্ষতা’কে প্রতিস্থাপন করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে একটি তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে পরিণত করার ঘৃণ্য চক্রান্ত শুরু হয়।
শুধু তাই নয়, ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার নামে ইসলাম বিদ্বেষীরা প্রশাসনের পূর্ণ সহযোগিতায় ও ছত্রছায়ায় দেশে কুফরী মতবাদ, একমূখী শিক্ষার নামে ধর্মহীন শিক্ষানীতি, কওমী মাদরাসার বিরুদ্ধে অপপ্রচার, কুরআন বিরোধী নারীনীতিমালা ও সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চার অপতৎপরতা পূর্ণোদ্যমে শুরু করা হয়। এতে করে এ দেশের মুসলমান বিশেষতঃ মুসলিম শিশু-কিশোর ও যুবক শ্রেণী চরম ধর্মীয় ও নৈতিক অধঃপতনের দিকে অগ্রসর হতে শুরু করে। উল্লেখ্য যে, উক্ত ধর্ম নিরপেক্ষতার দোহাই দিয়ে এদেশের উচ্চ আদালতের একজন বিচারক একজন বিচারপ্রার্থীর টুপি খুলে ফেলতে বাধ্য করেন।
সর্বোপরি নারীর ক্ষমতায়নের ধোঁয়ায় আমাদের মুসলিম রমনিদেরকে বেহায়াপনা-বেলেল্লাপনার এক মহোৎসবে মাতাল করে পশ্চিমা সংস্কৃতির ছোবলে আগ্রাসনের মধ্য দিয়ে দেশে ইভটিজিং ও নারী নির্যাতনের প্রবণতা আশংকাজনক হারে বৃদ্ধিতে উৎসাহিত করেছে। এসব সর্বাগ্রাসী আগ্রাসনের মহাসাগর থেকে নিমজ্জিত মানবতাকে উত্তোলনের জন্য আপনাদের সকলের প্রতি হেফাজতের পতাকায় সমবেত হওয়ার আকুল আবেদন জানাচ্ছি। আল্লাহ তা’আলাই একমাত্র সাহায্যকারী।