সোমবার, ২৮ অক্টোবর ২০১৩ কওমী মাদরাসা আইন পাস হলে গৃহযুদ্ধ শুরু হবে : আল্লামা শফী

কওমী মাদরাসা শিক্ষা কর্তৃপক্ষ আইন ২০১৩ যদি পাস করা হয় তবে দেশে লক্ষ লক্ষ লাশ পড়বে বলে হুমকি দিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। রবিবার হাটহাজারী দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদ্রসা সংলগ্ন একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ হুমকি প্রদান করেন। তিনি অবিলম্বে এ আইন পাস করার চেষ্টা থেকে বিরত থাকার জন্য সরকারকে আহবান জানান। তিনি বলেন, এ আইন পাশ করা হলে কওমী মাদ্রাসা আলিয়া মাদ্রাসার মত হয়ে যাবে। এখানে কোন নিয়মনীতি থাকবে না। থাকবে না কোন পর্দা। এতে কওমী মাদ্রাসা সৃষ্টির লক্ষ্য বিনষ্ট হবে। অতীতে কেউ কওমী মাদ্রাসার বিরুদ্ধে কিছু করতে পারেনি। বর্তমানেও পারবে না। যারা কওমী মাদ্রাসাকে ধ্বংস করতে চেয়েছে তারাই মূলত ধ্বংস হয়েছে। কওমী মাদ্রাসায় হাত দিলে সে হাত আগুনে জ্বলে যাবে।

অন্যদিকে হাটহাজারী বড় মাদ্রারাসায় সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময়কালে হেফাজতের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেন, ‘কওমী মাদরাসা শিক্ষা আইন পাস হলে দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হবে। এ জন্য সরকারকে দায়ী হতে হবে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ও তার দলের নেতাকর্মীরা আমার বিরুদ্ধে সংসদে ও বিভিন্ন মিছিল সমাবেশে কুৎসা রটনা করছে। কিন্তু আমি তার প্রতিবাদ করিনি এবং আমি তাদের বিরুদ্ধে একটি কথাও বলিনি।  আমি বলেছি, আল্লাহ তাদের বিচার করবে। আল্লামা আহমদ শফী আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুধু কওমী মাদ্রাসা সম্পর্কে দুইটি শব্দ জানেন। একটি হচ্ছে মৌলবাদী আর অন্যটি জঙ্গিবাদী। এছাড়া আর কোন শব্দ তার জানা নেই। হাটহাজারী মাদ্রাসা ও কওমী মাদ্রাসাগুলোতে বোমা তৈরি করা হয় না। সেখানে আলেম তৈরি করা হয়। বোমা তৈরি করা হয় স্কুল-কলেজে। আমরা রাজনীতি করি না। আমাদের আন্দোলন হচ্ছে ঈমান রক্ষার আন্দোলন, ইসলামের হেফাজতে আন্দোলন। আমাদের সাথে শেখ হাসিনার কোন বিরোধ নেই। কিন্তু কেন জানি না তিনি কওমী মাদ্রাসার পিছনে ছুটছেন। তিনি দুই দলের নেত্রীর শুভবুদ্ধি উদয়ের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।
তাছাড়া সংবাদ সম্মেলন থেকে চার দফা কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে মহাসচিবের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হেফাজতের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, যুগযুগ ধরে লক্ষ লক্ষ মুসলিম পরিবারের সন্তান সন্ততি কওমী মাদরাসায় লেখাপড়া করে মানুষের মাঝে কুরআন-সুন্নাহ তথা ইসলামের আলো ছড়িয়ে দেবার মিশনে নিয়োজিত। সেসব কুরআন-হাদিসের বিশুদ্ধ জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রগুলোকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার ‘কওমী মাদরাসা শিক্ষা কর্তৃপক্ষ’ আইনের নামে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে নেমেছে। এই আইনের মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে কওমী মাদরাসাসমূহে বিদ্যমান ইসলামী শিক্ষার স্বকীয়তা ধ্বংস, সমাজকে ধর্মহীন ও নৈতিকতাশূন্য করা এবং ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের স্বতঃস্ফূর্ত সার্বিক সহযোগিতায় পরিচালিত কওমী মাদরাসাসমূহকে সরকারি নিয়ন্ত্রণে আষ্টেপৃষ্টে বেঁধে ফেলার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।
সরকার এই আইনের সুবাদে নিজেদের মনোনীত কিছু লোক চাপিয়ে দিয়ে বস্ত্তত কওমী মাদরাসাগুলোর ওপর যথেচ্ছ খবরদারি করতে চায়। সনদের তথাকথিত স্বীকৃতির নাম দিয়ে আলিমদের মধ্যে দ্বিধাবিভক্তির সৃষ্টিরও গভীর চক্রান্ত করে যাচ্ছে। আমরা মনে করি, আলিম-ওলামাকে ঈমান-আকীদার প্রশ্নে যেকোনো আন্দোলন থেকে বিরত রেখে আত্মরক্ষামূলক ভূমিকায় ঠেলে দেবার জন্য এটি সরকারের আরেকটি নতুন চাল। দেশের শীর্ষস্থানীয় আলিম, কওমী মাদরাসা বোর্ডের দায়িত্বশীল ও বিভিন্ন মাদরাসার প্রিন্সিপালগণ সরকারের এই হঠাকারী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন।
সরকার ও অতি উৎসাহী কতিপয় মিডিয়া কওমী মাদরাসার বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণ ছাড়া একের পর এক মিথ্যা, বানোয়াট ও কল্পনাপ্রসূত সংবাদ পরিবেশন করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। লালখান বাজার মাদরাসায় ঘটে যাওয়া অগ্নিকান্ডের দুর্ঘটনাকে ঘিরে হাটহাজারী মাদরাসাসহ সারা দেশের কওমী মাদরাসাসমূহকে জঙ্গি ও বোমাবাজির সাথে জড়িত প্রমাণ করার জন্য ভয়াবহ অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রীর উদ্যোশে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, তিনি মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন। কওমী শিক্ষা আইন ২০১৩ সর্ম্পকে আল্লামা শাহ আহমদ শফীর সাথে কোন রকম আলোচনা করা হয়নি। কওমী মাদরাসা কর্তৃপক্ষ আইন-২০১৩ পাস থেকে বিরত থাকার দাবিতে ও ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলন থেকে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ঘোষিত চারদফা কর্মসূচি হল : ১ নভেম্বর জুমাবার সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ, ২ নভেম্বর শনিবার হাটহাজারী কলেজ ময়দানে মহাসমাবেশ, ১৫ নভেম্বর এর মধ্যে সকল বিভাগীয় শহরে মহাসমাবেশ। এসব কর্মসূচিতে বাধা দেয়া হলে হরতালসহ কঠিন কর্মসূচি ঘোষণা ।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র নায়েবী আমীর শামসুল আলম, মাওলানা তাজুল ইসলাম, মাওলানা লোকমান, যুগ্ম মহাসচিব যথাক্রমে মঈনউদ্দীন রুহী, সেলিম উল্লাহ্, সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী, যুগ্ম সংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুউল্লাহ্ আজাদী, উত্তর সাংগঠনিক সম্পাদক মীর ইদ্রিছ, উপজেলা হেফাজত নেতৃবৃন্দ মাওলানা আবদুল্লাহ, জাকারিয়া নোমান ফয়েজী, শফিউল্লাহ্, আহসান উল্লাহ্, জাহাঙ্গীর মেহেদী, ফয়সল তাজ, ইব্রহিম সিকদার, আ.ন.ম.আহসাউল্লাহ, জুনায়েদ বিন ইয়াহিয়া প্রমুখ
advertise
advertise
advertise