বিডিলাইভ রিপোর্ট : মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লাকে ফাঁসি দেয়ার আগে তাকে বিশেষ খাবার দেয় কারা কর্তৃপক্ষ। খাবার শেষে গোসল করেন তিনি। এরপর তওবা পড়তে পড়তে ফাঁসির মঞ্চের দিকে এগিয়ে যান।
কারা সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে ফাঁসির রায় কার্যকর করার আগে কাদের মোল্লাকে গরু ও মুরগীর গোশত, তিন প্রকার সবজি এবং সাদা ভাত দেয়া হয়। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সংবাদ শুনেও তিনি বিচলিত হননি। অনকেটাই স্বাভাবিক ছিলেন।
চিকিৎসকরা কাদের মোল্লার শরীরিক পরীক্ষা করার জন্য গেলে তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করেন, ‘আমাকে তওবা পড়ানোর জন্য হুজুর আসবে না?’ এরপর কাদের মোল্লাকে জীবনের শেষ গোসল করানো হয়। পরে তিনি দুই রাকাত নামাজ আদায় করেন। এরপর কারা মসজিদের ইমাম মনির হোসেন তাকে তওবা পড়ান। তওবা পড়ানো শেষে পায়জামা পাঞ্জাবি পরিহিত কাদের মোল্লা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে ফাঁসির মঞ্চের দিকে এগিয়ে যান।
গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টা এক মিনিটে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নির্মিত স্থায়ী ফাঁসির মঞ্চে কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। দণ্ড কার্যকর করতে সহায়তাকারী জল্লাদের প্রধান ছিলেন শাহজাহান ভুঁইয়া।
ফাঁসি কার্যকর করার সময় সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কারা মহাপরিদর্শক মাঈন উদ্দিন খন্দকার, উপ-কারা মহাপরিদর্শক গোলাম হায়দার, ঢাকা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শেখ ইউসুফ হারুন, জ্যেষ্ঠ কারা তত্ত্বাবধায়ক ফরমান আলী, কারাধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান, ঢাকার সিভিল সার্জন আবদুল মালেক ও কারা চিকিৎসক রথীন্দ্রনাথ শম্ভু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
শেখ ইউসুফ হারুন বলেন, ‘রাত ১০টা এক মিনিটে ফাঁসি কার্যকর করে তাকে ২০ মিনিট ঝুলিয়ে রাখা হয়। চার জন জল্লাদ তার (কাদের মোল্লা) ফাঁসি কার্যকর করেন। রাতেই অ্যাম্বুলেন্সে করে পুলিশি পাহারায় লাশ ফরিদপুরে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়।’
কাদের মোল্লার ইচ্ছা অনুযায়ী পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।
সুত্রঃ- ১৪ ডিসেম্বর/বিডিলাইভ/আরটি.
