এরশাদকে অভিনন্দন জানিয়েছেন চট্টগ্রামের ৫৫০ আলেম : এরশাদকে নির্বাচনে অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকার আহ্বান জুনায়েদ বাবুনগরীর

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে সব দলের অংশগ্রহণ ছাড়া নির্বাচনে অংশ না নেয়ার বর্তমান সিদ্ধান্তে অটল থাকার আহ্বান জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব প্রখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা হাফেজ মুহাম্মদ জুনায়েদ বাবুনগরী। গতকাল বিকালে তিনি এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান। 
বিবৃতিতে জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, দেশ ও জাতি বর্তমানে এক গভীর সঙ্কটময় মুহূর্ত অতিক্রম করছে। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাীিতে পুরো জাতি আজ ঐক্যবদ্ধ। অথচ সরকার গণমানুষের এই দাবির প্রতি কোনোরূপ তোয়াক্কা না করে দেশ ও জাতিকে গভীর অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। কয়েকদিন আগে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট বলেছিলেন, ‘তিনি দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা চান, প্রধানমন্ত্রীর পদ চান না’। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য যে কতটা অসার, তা বুঝতে এখন কারও বাকি নেই। ক্ষমতার মোহে সরকার এতটা অন্ধ হয়ে পড়েছে যে, জনসাধারণের মতামতের প্রতি কোনো ভ্রূক্ষেপই করছে না, এমনকি তারা জান-মাল এবং দেশের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিতেও কুণ্ঠাবোধ করছে না।


তিনি আরও বলেন, বর্তমান গভীর রাজনৈতিক সঙ্কটময় সময়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আগের অবস্থান থেকে ফিরে এসে সব দলের অংশগ্রহণ ছাড়া নির্বাচনে না যাওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা দেশের জনসাধারণের প্রত্যাশাকে পূরণ করেছে এবং এটা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। কারণ, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নিরপেক্ষ নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির জন্য তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। 
দেশের লাখ লাখ ওলামা-মাশায়েখ ও কোটি কোটি তৌহিদি জনতা জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান নাস্তিক্যবাদ প্রতিষ্ঠায় সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার হবেন—এটা কখনই আশা করে না। দেশের এ মহাসঙ্কটে জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী সব দলের ঐক্য আজ সময়ের দাবি। এদেশের ইসলামপ্রিয় তৌহিদি জনতার ঈমানি ভিতকে ধ্বংস করে দেয়ার জন্য আমাদের প্রতিবেশী বৃহত্ রাষ্ট্রটি গভীর চক্রান্তে লিপ্ত। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসীরা ক্ষমতায় আসুক—তারা এটা কোনোভাবেই চাচ্ছে না। কারণ তারা জানে একজন ঈমানদার মুসলমান দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় কতটা দৃঢ় অবিচল থাকে এবং তাদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্রে একমাত্র বাধা হচ্ছে এদেশের আলেম সমাজ ও তৌহিদি জনতা। সুতরাং তারা যে কোনোভাবেই চাইবে একটা সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত রেখে মুসলমানদের ঈমানি চেতনাকে ধ্বংস করে দিতে।
হেফাজত মহাসচিব আরও বলেন, সময় এসেছে ছোটখাটো মতভেদ ভুলে গিয়ে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী গণমানুষকে ষড়যন্ত্রকারীদের বিরদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর। অন্যথায় দেশ ও জাতি গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিতে পারে।
এদিকে অপর এক বিবৃতিতে চট্টগ্রামের ৫৫০ আলেম জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে সব দলের অংশগ্রহণ ছাড়া নির্বাচনে অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্তে অবিচল থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। 
বিবৃতিতে তারা বলেন, ইসলামবিদ্বেষী নাস্তিক্যবাদের সহায়ক বর্তমান মহাজোট সরকার ভারতীয় দাদাবাবুদের খুঁটির জোরে একতরফা মনগড়া নির্বাচন দিয়ে এদেশের মুসলমানদের ঈমান-আকিদাকে ধ্বংস করতে চায়। কারণ, দাদাবাবুরা ভালোভাবেই জানে যে, একজন ঈমানদার মুসলমান স্বাধীনতাবিরোধী ও অন্যায় আধিপত্যবাদীদের রক্তচক্ষুকে কখনই পরোয়া করেন না। এদেশকে ভারতের অঙ্গরাজ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠার মিশনে তাদের একমাত্র বড় বাধা হচ্ছে এদেশের উলামা-মাশায়েখ, কওমি মাদরাসা এবং বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী সাধারণ মুসলমান। মুসলমানদের এই ঈমানি চেতনাকে নষ্ট করার জন্য তারা অনেক আগে থেকেই নানা চক্রান্ত করে যাচ্ছে। শাহবাগের তথাকথিত গণজাগরণ মঞ্চও এই দাদাবাবুদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ইন্ধনে পরিচালিত হয়েছিল। 
সুতরাং বর্তমান রাজনৈতিক গভীর সঙ্কটকালীন সময়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদের একতরফা নির্বাচনে অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত প্রশংসিত ও তাত্পর্যপূর্ণ। দেশের উলামা-মাশায়েখ ও কোটি কোটি তৌহিদি জনতা জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান তার বর্তমান অবস্থানে অটল থাকবেন, তা গভীরভাবে আশা করে। তিনি সিদ্ধান্তে নতুন করে কোনো ভুল করলে দেশ ও জাতির অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ শেষ বয়সে এসে এমনটি করবেন না বলেই আমাদের দৃঢ় আশা।
বিবৃতিদাতা আলেমরা হলেন : আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, আল্লামা হাফেজ শামসুল আলম, আল্লামা তাজুল ইসলাম, মাওলানা সালাহ উদ্দিন, মুফতি শিব্বির আহ্মদ, মাওলানা মনসুরুল হক খান, মাওলানা মুহাম্মদ ইদরিস, মাওলানা নাছির উদ্দিন মুনির, মাওলানা আলমগীর, মাওলানা আবদুস সবুর, মুফতি আবদুর রহিম, মাওলানা মুহাম্মদ সফিউল্লাহ, মাওলানা সাইফুদ্দিন, মাওলানা এনামুল হক প্রমুখ।