পাল্টে গেছে ভোটের চিত্র। ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে ভোটারদের মনোভাবে। প্রধান বিরোধী দল বিএনপির জনসমর্থনে সম্প্রতি বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটেছে, জনসমর্থন বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের অনেক ভোটার এবং তরুণ ভোটাররা ক্ষমতাসীন দলটি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য সংস্থা ইউএসএইড এবং যুক্তরাজ্যের সাহায্য সংস্থা ইউকেএইডের সহায়তায় বিশ্বখ্যাত জরিপ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এসি নেইলসন পরিচালিত জরিপে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
‘ডেমোক্রেটিক পার্টিসিপেশন অ্যান্ড রিফর্ম’ প্রোগ্রামের আওতায় জরিপটি বাস্তবায়ন করেছে আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল।
নেইলসনের জরিপের ফলাফল নিয়ে গতকাল ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, গত জুলাইয়ে সর্বশেষ পরিচালিত জনমত জরিপে দেখা গেছে, বিএনপিকে ভোট দেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন দেশের ৪৩ শতাংশ ভোটার। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের পক্ষে ভোটারদের সমর্থন রয়েছে ৩২ শতাংশ। ফলে ১১ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে বিএনপি।
নিউ এজ-এ ‘সিগনিফিক্যান্ট সুইং টুয়ার্ডস বিএনপি, আওয়ামী লীগ হোপস লাই উইথ আনডিসাইডেড ভোটারস’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১২ সালের নভেম্বরে পরিচালিত এক জনমত জরিপে বিএনপির জনসমর্থন ছিল ২০ শতাংশ। কিন্তু গত জুলাইয়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩ শতাংশে।
অবশ্য, ১৯ শতাংশ ভোটার এখনও ঠিক করেননি যে আগামী নির্বাচনে তারা কাকে ভোট দেবেন। দুটি জনমত জরিপের এই ব্যবধানে স্পষ্ট হয়ে গেছে, আওয়ামী লীগের বিপরীতে মজবুত ভিত্তি তৈরি করেছে বিএনপি।
এর আগে গত জানুয়ারিতে পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায়, বিএনপির পক্ষে জনসমর্থন ছিল ৩২ শতাংশ। এরপর এপ্রিলে পরিচালিত আরেক জরিপে দেখা যায়, বিএনপির জনসমর্থন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮ শতাংশে। তবে এ চারটি জরিপেই আওয়ামী লীগের জনসমর্থন প্রায় একই ছিল— ৩২ শতাংশ।
উত্তরদাতাদের কাছে প্রশ্ন ছিল, ‘আজই ভোট হলে আপনি কাকে ভোট দেবেন?’
বাংলাদেশে সব জায়গা থেকে দৈবচয়নের ভিত্তিতে ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ ভোটারের সঙ্গে মুখোমুখি কথা বলে জরিপগুলো পরিচালনা করা হয়েছে। ভোট ছাড়াও তত্ত্বাবধায়ক সরকার, যুদ্ধাপরাধের বিচার এবং শাহবাগ আন্দোলন নিয়েও ভোটারদের প্রশ্ন করা হয়েছে।
ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, বিশ্বের অন্যান্য স্থানের মতোই সর্বাধুনিক পদ্ধতি প্রয়োগ করে জনমত জরিপগুলো পরিচালনা করা হয়েছে। এতে যে ফলাফল পাওয়া গেছে, তাতে বাংলাদেশের ভোটারদের প্রকৃত মনোভাবই নির্ভুলভাবে ফুটে উঠেছে। অন্যান্য গ্রহণযোগ্য জরিপের মতোই এতে দুই ভাগের কম-বেশি ভুল থাকতে পারে।
জরিপে দেখা যায়, এখন সব বয়সী ভোটারদের কাছেই সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় বিএনপি। তবে তরুণ প্রজন্ম যারা এবার প্রথম ভোটার হয়েছেন এবং যাদের বয়স ২২-এর নিচে, তাদের মধ্যেই বিএনপির জনসমর্থন বেশি।
১৮ থেকে ২২ বছর বয়সী ভোটারদের মধ্যে বিএনপির জনসমর্থন ৪৬ শতাংশ। বিপরীতে আওয়ামী লীগের জনসমর্থন ২৯ শতাংশ।
তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের কাছে বিএনপির আবেদন বেশি থাকার কারণেই শুধু তাদের পাল্লা ভারী নয়, বরং আওয়ামী লীগের অনেক তরুণ ভোটারও এখন বিএনপির দিকে ঝুঁকছে।
২০১২ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৩ সালের জুলাইয়ের মধ্যে পরিচালিত এ চারটি জনমত জরিপে দেখা যায়, ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছিলেন এমন ভোটারের প্রায় অর্ধেকই বলেছেন, তারা আর আওয়ামী লীগকে ভোট দেবেন না।
প্রায় ২৪ শতাংশ ভোটার বলেছেন, তারা আওয়ামী লীগের ওপর থেকে সমর্থন তুলে নিয়েছেন এবং এখন বিএনপিকে সমর্থন দিচ্ছেন।
অন্যদিকে ২০১২ সালের নভেম্বরে বিএনপির ভোটারদের ৭০ শতাংশ বলেছিলেন তারা বিএনপিকেই সমর্থন করেন। কিন্তু গত জুলাইয়ের জনমত জরিপে দেখা যায়, এখন ৯০ শতাংশ বিএনপি সমর্থক বলছেন, তারা বিএনপিকেই ভোট দেবেন।
জরিপে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ১১১টি আসনেও দলটি পরাজিত হতে পারে।
১৯৯১ সাল থেকে অনুষ্ঠিত চারটি সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বড় ব্যবধানে জিতেছে (৭ থেকে ১৪ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে) এমন ৪১টি আসনের ওপর পরিচালিত সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, এখন সেখানে বিএনপির সমর্থন ৫১ শতাংশ এবং আওয়ামী লীগের ৩৪ শতাংশ। ফলে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এসব আসনেও ১৭ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে বিএনপি।
অন্যদিকে ১৯৯১ সাল থেকে অনুষ্ঠিত চারটি সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৪ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে জিতেছে এমন ৭০টি আসনের ওপর পরিচালিত সর্বশেষ জুলাইয়ের জনমত জরিপে বিএনপির সমর্থন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ শতাংশে। আওয়ামী লীগের জনসমর্থন ৩৮ শতাংশ।
জরিপে দেখা যায়, শহুরে এলাকা থেকে গ্রামীণ এলাকায় আওয়ামী লীগের অবস্থান তুলনামূলক ভালো, গ্রামে যথাক্রমে ৩৪ শতাংশ ও শহরে ২৫ শতাংশ।
তবে গ্রাম ও শহর উভয় স্থানেই আওয়ামী লীগের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে বিএনপি। শহরে বিএনপির সমর্থন ৪৪ শতাংশ এবং গ্রামে ৪২ শতাংশ।
সর্বশেষ জরিপটি (গত জুলাই) পরিচালনা করা হয় জুনে অনুষ্ঠিত চারটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর। ওই চারটি নির্বাচনেই আওয়ামী লীগের ভরাডুবি ঘটে। এরপর গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে হেরে যায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী।
তবে জনমত জরিপে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের জনসমর্থনে বড় ধরনের ধস নামলেও প্রধানমন্ত্রী এবং দলটির সভাপতি শেখ হাসিনার জনসমর্থন বেশ ভালোই আছে। ৫২ শতাংশ ভোটার শেখ হাসিনাকে পছন্দ করেন বলে মন্তব্য করেছেন।
তবে শেখ হাসিনার চেয়ে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া। ৫৪ শতাংশ ভোটারের পছন্দ খালেদা জিয়াকে। তবে ৩০ শতাংশ ভোটার বলেছেন, তারা দুই নেত্রীর কাউকেই পছন্দ করেন না।
গত এপ্রিলে পরিচালিত জরিপে দেখা যায়, দেশের ৮১ শতাংশ ভোটারই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে। এমনকি আওয়ামী লীগের ৬২ শতাংশ সমর্থকও এ সিদ্ধান্তের বিরোধী। অন্যদিকে দেশের ভোটারদের মাত্র ১৫ শতাংশ তত্ত্বাবধায়ক সংক্রান্ত সাংবিধানিক পরিবর্তনের পক্ষে রয়েছেন।
জরিপে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে চলমান যুদ্ধাপরাধের বিচার সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে ৮৬ ভাগ ব্যক্তিগতভাবে এই বিচার চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দেন। আর বিরোধিতা করেন ১২ ভাগ। কিন্তু বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ৬৩ ভাগ মানুষ মনে করেন, এই বিচার প্রক্রিয়া অস্বচ্ছ এবং এদের মধ্যে ২২ ভাগ বিচার প্রক্রিয়া খুবই অস্বচ্ছ মনে করে। কেবল ৩১ ভাগ মনে করে, এই বিচার স্বচ্ছ এবং এদের মধ্যে মাত্র ৯ ভাগ এ বিচার প্রক্রিয়াকে খুবই স্বচ্ছ মনে করে।
জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৩১ ভাগ বলেছেন, তাদের পরিবার এবং বন্ধুরা শাহবাগ আন্দোলনের সমর্থক এবং এদের মধ্যে ১৩ ভাগ ঘোরতর সমর্থক। আর ৫১ ভাগ শাহবাগ আন্দোলনের বিরুদ্ধে এবং এদের মধ্যে ২১ ভাগ একেবারেই এ আন্দোলনকে সমর্থন করেন না। শাহবাগ আন্দোলনের সমর্থক ৬০ ভাগই আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত। আর বিএনপির ৭১ ভাগ সমর্থক শাহবাগ আন্দোলনের বিরোধী।
ডেমোক্র্যাসি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, এসব জরিপে জনমতের যথার্থ প্রতিফলন ঘটেছে। ইউএস এইড বা ইউকে এইডের কোনো প্রভাব জরিপে পড়েনি।
যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য সংস্থা ইউএসএইড এবং যুক্তরাজ্যের সাহায্য সংস্থা ইউকেএইডের সহায়তায় বিশ্বখ্যাত জরিপ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এসি নেইলসন পরিচালিত জরিপে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
‘ডেমোক্রেটিক পার্টিসিপেশন অ্যান্ড রিফর্ম’ প্রোগ্রামের আওতায় জরিপটি বাস্তবায়ন করেছে আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল।
নেইলসনের জরিপের ফলাফল নিয়ে গতকাল ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, গত জুলাইয়ে সর্বশেষ পরিচালিত জনমত জরিপে দেখা গেছে, বিএনপিকে ভোট দেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন দেশের ৪৩ শতাংশ ভোটার। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের পক্ষে ভোটারদের সমর্থন রয়েছে ৩২ শতাংশ। ফলে ১১ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে বিএনপি।
নিউ এজ-এ ‘সিগনিফিক্যান্ট সুইং টুয়ার্ডস বিএনপি, আওয়ামী লীগ হোপস লাই উইথ আনডিসাইডেড ভোটারস’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১২ সালের নভেম্বরে পরিচালিত এক জনমত জরিপে বিএনপির জনসমর্থন ছিল ২০ শতাংশ। কিন্তু গত জুলাইয়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩ শতাংশে।
অবশ্য, ১৯ শতাংশ ভোটার এখনও ঠিক করেননি যে আগামী নির্বাচনে তারা কাকে ভোট দেবেন। দুটি জনমত জরিপের এই ব্যবধানে স্পষ্ট হয়ে গেছে, আওয়ামী লীগের বিপরীতে মজবুত ভিত্তি তৈরি করেছে বিএনপি।
এর আগে গত জানুয়ারিতে পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায়, বিএনপির পক্ষে জনসমর্থন ছিল ৩২ শতাংশ। এরপর এপ্রিলে পরিচালিত আরেক জরিপে দেখা যায়, বিএনপির জনসমর্থন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮ শতাংশে। তবে এ চারটি জরিপেই আওয়ামী লীগের জনসমর্থন প্রায় একই ছিল— ৩২ শতাংশ।
উত্তরদাতাদের কাছে প্রশ্ন ছিল, ‘আজই ভোট হলে আপনি কাকে ভোট দেবেন?’
বাংলাদেশে সব জায়গা থেকে দৈবচয়নের ভিত্তিতে ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ ভোটারের সঙ্গে মুখোমুখি কথা বলে জরিপগুলো পরিচালনা করা হয়েছে। ভোট ছাড়াও তত্ত্বাবধায়ক সরকার, যুদ্ধাপরাধের বিচার এবং শাহবাগ আন্দোলন নিয়েও ভোটারদের প্রশ্ন করা হয়েছে।
ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, বিশ্বের অন্যান্য স্থানের মতোই সর্বাধুনিক পদ্ধতি প্রয়োগ করে জনমত জরিপগুলো পরিচালনা করা হয়েছে। এতে যে ফলাফল পাওয়া গেছে, তাতে বাংলাদেশের ভোটারদের প্রকৃত মনোভাবই নির্ভুলভাবে ফুটে উঠেছে। অন্যান্য গ্রহণযোগ্য জরিপের মতোই এতে দুই ভাগের কম-বেশি ভুল থাকতে পারে।
জরিপে দেখা যায়, এখন সব বয়সী ভোটারদের কাছেই সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় বিএনপি। তবে তরুণ প্রজন্ম যারা এবার প্রথম ভোটার হয়েছেন এবং যাদের বয়স ২২-এর নিচে, তাদের মধ্যেই বিএনপির জনসমর্থন বেশি।
১৮ থেকে ২২ বছর বয়সী ভোটারদের মধ্যে বিএনপির জনসমর্থন ৪৬ শতাংশ। বিপরীতে আওয়ামী লীগের জনসমর্থন ২৯ শতাংশ।
তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের কাছে বিএনপির আবেদন বেশি থাকার কারণেই শুধু তাদের পাল্লা ভারী নয়, বরং আওয়ামী লীগের অনেক তরুণ ভোটারও এখন বিএনপির দিকে ঝুঁকছে।
২০১২ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৩ সালের জুলাইয়ের মধ্যে পরিচালিত এ চারটি জনমত জরিপে দেখা যায়, ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছিলেন এমন ভোটারের প্রায় অর্ধেকই বলেছেন, তারা আর আওয়ামী লীগকে ভোট দেবেন না।
প্রায় ২৪ শতাংশ ভোটার বলেছেন, তারা আওয়ামী লীগের ওপর থেকে সমর্থন তুলে নিয়েছেন এবং এখন বিএনপিকে সমর্থন দিচ্ছেন।
অন্যদিকে ২০১২ সালের নভেম্বরে বিএনপির ভোটারদের ৭০ শতাংশ বলেছিলেন তারা বিএনপিকেই সমর্থন করেন। কিন্তু গত জুলাইয়ের জনমত জরিপে দেখা যায়, এখন ৯০ শতাংশ বিএনপি সমর্থক বলছেন, তারা বিএনপিকেই ভোট দেবেন।
জরিপে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ১১১টি আসনেও দলটি পরাজিত হতে পারে।
১৯৯১ সাল থেকে অনুষ্ঠিত চারটি সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বড় ব্যবধানে জিতেছে (৭ থেকে ১৪ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে) এমন ৪১টি আসনের ওপর পরিচালিত সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, এখন সেখানে বিএনপির সমর্থন ৫১ শতাংশ এবং আওয়ামী লীগের ৩৪ শতাংশ। ফলে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এসব আসনেও ১৭ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে বিএনপি।
অন্যদিকে ১৯৯১ সাল থেকে অনুষ্ঠিত চারটি সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৪ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে জিতেছে এমন ৭০টি আসনের ওপর পরিচালিত সর্বশেষ জুলাইয়ের জনমত জরিপে বিএনপির সমর্থন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ শতাংশে। আওয়ামী লীগের জনসমর্থন ৩৮ শতাংশ।
জরিপে দেখা যায়, শহুরে এলাকা থেকে গ্রামীণ এলাকায় আওয়ামী লীগের অবস্থান তুলনামূলক ভালো, গ্রামে যথাক্রমে ৩৪ শতাংশ ও শহরে ২৫ শতাংশ।
তবে গ্রাম ও শহর উভয় স্থানেই আওয়ামী লীগের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে বিএনপি। শহরে বিএনপির সমর্থন ৪৪ শতাংশ এবং গ্রামে ৪২ শতাংশ।
সর্বশেষ জরিপটি (গত জুলাই) পরিচালনা করা হয় জুনে অনুষ্ঠিত চারটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর। ওই চারটি নির্বাচনেই আওয়ামী লীগের ভরাডুবি ঘটে। এরপর গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে হেরে যায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী।
তবে জনমত জরিপে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের জনসমর্থনে বড় ধরনের ধস নামলেও প্রধানমন্ত্রী এবং দলটির সভাপতি শেখ হাসিনার জনসমর্থন বেশ ভালোই আছে। ৫২ শতাংশ ভোটার শেখ হাসিনাকে পছন্দ করেন বলে মন্তব্য করেছেন।
তবে শেখ হাসিনার চেয়ে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া। ৫৪ শতাংশ ভোটারের পছন্দ খালেদা জিয়াকে। তবে ৩০ শতাংশ ভোটার বলেছেন, তারা দুই নেত্রীর কাউকেই পছন্দ করেন না।
গত এপ্রিলে পরিচালিত জরিপে দেখা যায়, দেশের ৮১ শতাংশ ভোটারই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে। এমনকি আওয়ামী লীগের ৬২ শতাংশ সমর্থকও এ সিদ্ধান্তের বিরোধী। অন্যদিকে দেশের ভোটারদের মাত্র ১৫ শতাংশ তত্ত্বাবধায়ক সংক্রান্ত সাংবিধানিক পরিবর্তনের পক্ষে রয়েছেন।
জরিপে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে চলমান যুদ্ধাপরাধের বিচার সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে ৮৬ ভাগ ব্যক্তিগতভাবে এই বিচার চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দেন। আর বিরোধিতা করেন ১২ ভাগ। কিন্তু বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ৬৩ ভাগ মানুষ মনে করেন, এই বিচার প্রক্রিয়া অস্বচ্ছ এবং এদের মধ্যে ২২ ভাগ বিচার প্রক্রিয়া খুবই অস্বচ্ছ মনে করে। কেবল ৩১ ভাগ মনে করে, এই বিচার স্বচ্ছ এবং এদের মধ্যে মাত্র ৯ ভাগ এ বিচার প্রক্রিয়াকে খুবই স্বচ্ছ মনে করে।
জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৩১ ভাগ বলেছেন, তাদের পরিবার এবং বন্ধুরা শাহবাগ আন্দোলনের সমর্থক এবং এদের মধ্যে ১৩ ভাগ ঘোরতর সমর্থক। আর ৫১ ভাগ শাহবাগ আন্দোলনের বিরুদ্ধে এবং এদের মধ্যে ২১ ভাগ একেবারেই এ আন্দোলনকে সমর্থন করেন না। শাহবাগ আন্দোলনের সমর্থক ৬০ ভাগই আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত। আর বিএনপির ৭১ ভাগ সমর্থক শাহবাগ আন্দোলনের বিরোধী।
ডেমোক্র্যাসি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, এসব জরিপে জনমতের যথার্থ প্রতিফলন ঘটেছে। ইউএস এইড বা ইউকে এইডের কোনো প্রভাব জরিপে পড়েনি।
